পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য বড় সুখবর। আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে রাজ্যের সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল মহিলাদের নিরাপদ, সহজ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের একাধিক রাজ্যে এই ধরনের সুবিধা চালু থাকলেও এবার পশ্চিমবঙ্গেও তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। পরিবহণ দফতর ইতিমধ্যেই এই পরিষেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তৈরি করেছে।
এই পরিষেবার আওতায় রাজ্যের সরকারি বাস—এসি, নন-এসি এবং দূরপাল্লার সরকারি বাস—সব ক্ষেত্রেই মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যাত্রীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে। বাসে ওঠার সময় আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা অন্য কোনও বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে রাজ্যের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হতে পারে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মহিলা যাত্রীদের “শূন্য টাকা মূল্যের টিকিট” দেওয়া হবে। অর্থাৎ যাত্রার জন্য কোনও ভাড়া দিতে হবে না, তবে কন্ডাক্টর টিকিট ইস্যু করবেন যাতে সরকারি রেকর্ড বজায় থাকে। এই টিকিটে বিশেষ সরকারি চিহ্ন থাকবে বলে জানা গিয়েছে। বাস চালক ও কন্ডাক্টরদেরও এই নতুন ব্যবস্থার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে পরিষেবা চালুর সময় কোনও সমস্যা না হয়।
ভবিষ্যতে আরও উন্নত ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবহণ দফতর মহিলাদের জন্য একটি বিশেষ ট্রাভেল কার্ড চালুর চিন্তাভাবনা করছে। এই কার্ড চালু হলে পরিচয়পত্র দেখানোর বদলে কার্ড দেখিয়েই সহজে বিনামূল্যে যাতায়াত করা যাবে। যদিও কার্ড কোথা থেকে পাওয়া যাবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে বিডিও অফিস, এসডিও অফিস বা পুরসভার মাধ্যমে তা বিতরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের ফলে ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মহিলা, গৃহকর্মী ও দৈনন্দিন যাতায়াতকারী লক্ষাধিক মহিলা উপকৃত হবেন। কলকাতায় প্রতিদিন প্রায় ১.৮ লক্ষ এবং গোটা রাজ্যে প্রায় ৪ লক্ষ মহিলা সরকারি বাসে যাতায়াত করেন বলে অনুমান। তাই এই উদ্যোগ মহিলাদের আর্থিক সাশ্রয় ও স্বাধীন চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পশ্চিমবঙ্গে নারী-কেন্দ্রিক জনপরিষেবার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।










