Trending NewsAppleNYT GamesCelebrity NewsWordle tipsBig 12 SoccerCelebrity BreakupsKeith UrbanUnited Nations Day

ভোরের মেঘেই সংকেত! আজই নামছে ভয়ংকর ঝড়-বৃষ্টি, কাঁপবে গোটা বাংলা

Updated :  Tuesday, March 31, 2026 12:49 AM

সপ্তাহের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় নাটকীয় পরিবর্তন চোখে পড়ছে। মঙ্গলবার ভোর থেকেই আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যাওয়ায় এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি মিললেও এই পরিবর্তনের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে বড়সড় দুর্যোগের ইঙ্গিত। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রাজ্যজুড়ে বজ্রঝড়-সহ বৃষ্টির দাপট ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে, সঙ্গে থাকবে দমকা ঝোড়ো হাওয়াও।

সোমবার রাতের বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবহাওয়া অনেকটাই বদলে গেছে। ভ্যাপসা গরমের জায়গায় এসেছে মেঘলা ঠান্ডা পরিবেশ, যা প্রথমে স্বস্তি দিলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। কারণ, বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে এবং তার সঙ্গে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ মিলিয়ে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর জেরেই আজ প্রায় সমস্ত জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগজনক। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বাঁকুড়া জেলায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা ফসলের ক্ষতি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ আরও তীব্র রূপ নিতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রঝড় পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় খোলা জায়গায় না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছ উপড়ে পড়া বা বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শহরাঞ্চলে যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের জন্যও। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনায় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, স্বস্তির আবহাওয়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই দুর্যোগ যে বড় আকার নিতে পারে, তা স্পষ্ট—তাই আগাম সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।