রাজ্যে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। চলতি বছরের অন্তর্বর্তী বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পরেও এখনও পর্যন্ত সেই সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। ফলে কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ না মেটায় কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্পষ্ট না হলে আন্দোলনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কর্মী সংগঠনগুলি।
ডিএ কার্যকর নিয়ে ধোঁয়াশা
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গেও ডিএ ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বাজেটে ঘোষিত ডিএ খুব শীঘ্রই কার্যকর করা হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, অর্থ দফতর শীঘ্রই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় কর্মীদের মধ্যে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
দৈনিক বেতনভোগীদের নতুন দাবি
এই পরিস্থিতির মধ্যেই দৈনিক মজুরি প্রাপ্ত কর্মীদের পক্ষ থেকে নতুন দাবি উঠেছে। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডিএ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দৈনিক মজুরিও বাড়ানো উচিত। রবিবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ১৫ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সময় দৈনিক মজুরি ৩২ টাকা বেড়েছিল। সেই উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বর্তমান ক্ষেত্রেও একইভাবে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানান। পাশাপাশি কর্মীদের নিজ নিজ দপ্তরে বকেয়া মজুরির দাবি তোলার পরামর্শ দেন।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও ফারাক
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। কর্মীদের দাবি, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান করতে হবে। এই ইস্যুতে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। যদিও রাজ্য সরকারের অবস্থান, ডিএ কোনও বাধ্যতামূলক অধিকার নয়।
বর্তমানে রাজ্যের কর্মচারীরা ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় ডিএ-র ফারাক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে। এপ্রিল মাস শেষের পথে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ডিএ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি না আসায় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন দেখার, রাজ্য সরকার কবে এই ঘোষণা কার্যকর করে এবং দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।









