অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখনই বড় দাবি তুললেন সরকারি শিক্ষকরা। ন্যূনতম বেতন ৫০ হাজার টাকা এবং পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফেরানোর দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে কি সত্যিই শিক্ষকদের কপাল খুলবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি। সপ্তম বেতন কমিশনের পরবর্তী আপডেট নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে।
শিক্ষকদের বড় দাবি কী?
কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ও নবোদয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক ন্যায়বিচার ফোরাম অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি পেশ করেছে। তাদের মূল দাবি, লেভেল ১ কর্মচারীদের ন্যূনতম বেসিক বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে করা হোক। এছাড়াও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৩.৮৩ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও ভাতা নিয়ে প্রস্তাব
বর্তমানে বার্ষিক ৩% বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে তা ৬% বা ৭% করার দাবি তুলেছেন শিক্ষকরা। তাঁদের মতে, ডিএ ৫০% পেরোলেই তা বেসিকের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এছাড়া HRA-র হার ১২%, ২৪% ও ৩৬% করার দাবিও জানানো হয়েছে।
পুরনো পেনশন ফেরানোর দাবি
সবচেয়ে বড় দাবি হল পুরনো পেনশন ব্যবস্থা (OPS) ফিরিয়ে আনা। শিক্ষকরা NPS ও UPS বাতিল করে আগের পেনশন ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে অবসরকালীন নিরাপত্তা বাড়বে।
আরও কী কী দাবি?
গ্র্যাচুইটির সীমা ২৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করার দাবিও উঠেছে।
বাস্তবে কতটা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবিগুলি বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের উপর বড় আর্থিক চাপ পড়তে পারে। তাই সব দাবি একসঙ্গে মেনে নেওয়া সহজ নয়। তবে আংশিক কিছু পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মত অনেকের।
সব মিলিয়ে, শিক্ষকদের দাবিতে নতুন করে চাপ বাড়ছে কেন্দ্রের উপর। অষ্টম বেতন কমিশন গঠন হলে এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে। এখন দেখার, সরকার এই দাবিগুলির কতটা বাস্তবায়ন করে এবং সরকারি কর্মীদের জন্য কী ঘোষণা আসে। আগামী বাজেট বা নীতিগত সিদ্ধান্তে এই বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত মেলে কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এতে লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিস্থিতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।









