মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি খাতেও। রান্নার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল থেকে শুরু করে অন্যান্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে এবার সামনে এসেছে এলপিজি সিলিন্ডারের প্রকৃত খরচ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির আমদানি ব্যয় এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে বর্তমানে একটি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের প্রকৃত খরচ প্রায় ১৬০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হল, এখনও সাধারণ গ্রাহকদের সেই সম্পূর্ণ মূল্য দিতে হচ্ছে না। বর্তমানে কলকাতায় ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা। এছাড়া দিল্লিতে ৯৪২ টাকা, মুম্বইয়ে ৯৪১.৫০ টাকা, বেঙ্গালুরুতে ৯৪৫.৫০ টাকা, চেন্নাইয়ে ৯৫৭.৫০ টাকা এবং হায়দ্রাবাদে ৯৯৪ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কলকাতায় ৩২৫৫.৫০ টাকা, দিল্লিতে ৩১১৩.৫০ টাকা, মুম্বইয়ে ৩০৬৭.৫০ টাকা, বেঙ্গালুরুতে ৩১৯৮ টাকা, চেন্নাইয়ে ৩২৮৩ টাকা এবং হায়দ্রাবাদে ৩৩৬৭ টাকা। ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ছোট ব্যবসায়ীদের খরচও অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এলপিজির বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক আমদানি খরচ অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, বর্তমান খুচরো মূল্যেও তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে প্রতি সিলিন্ডারে উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে প্রকৃত খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। তাই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই গ্যাসের দামের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।












