ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তে থাকে উন্মাদনা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা পর্তুগালের মতো দলের সমর্থনে গলা ফাটান লক্ষ লক্ষ ভারতীয়। কিন্তু একটি প্রশ্ন আজও অনেকের মনে ঘোরে—ভারত কি কখনও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল? উত্তর হল, হ্যাঁ। শুধু সুযোগই নয়, একবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পথও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবুও শেষ মুহূর্তে সেই মঞ্চে দেখা যায়নি ভারতকে।
ঘটনাটি ১৯৫০ সালের। সেই বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফিফা বিশ্বকাপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের অবস্থান ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছিল। ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ভারতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছিল। সেই সময় এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করায় ভারতের জন্য বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে আজও নানা মত রয়েছে। সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো, সেই সময় ভারতীয় ফুটবলারদের অনেকেই খালি পায়ে বা সাধারণ জুতো পরে খেলতে অভ্যস্ত ছিলেন। ফিফা বিশ্বকাপে বুট পরে খেলা বাধ্যতামূলক ছিল বলে ভারত অংশ নেয়নি—এমন দাবি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।
তবে ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, বিষয়টি শুধুমাত্র জুতোর কারণে নয়। দীর্ঘ বিদেশ সফরের খরচ, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার অভাব, বিশ্বকাপের গুরুত্ব সম্পর্কে তৎকালীন প্রশাসনের সীমিত ধারণা এবং অলিম্পিককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার মতো একাধিক কারণও এর পিছনে কাজ করেছিল।
যে কারণই হোক না কেন, ১৯৫০ সালের সেই সিদ্ধান্ত আজও ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় আক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভারতের নাম ওঠার এমন সুযোগ আর কখনও আসেনি। আজও ভারতীয় ফুটবল সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন সেই দিনের জন্য, যেদিন দেশের জাতীয় দল ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে মাঠে নামবে।














