ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় নৌবাহিনী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক নৌযান যুক্ত হওয়ার ফলে সমুদ্রপথে নজরদারি, প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে নতুন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টিলথ প্রযুক্তি, উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা এবং আধুনিক সেন্সরযুক্ত যুদ্ধজাহাজ। এই ধরনের নৌযান সমুদ্রসীমা রক্ষা, শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্তকরণ এবং দীর্ঘপাল্লার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রস্তাবিত জাহাজগুলির মধ্যে অন্যতম একটি স্টিলথ গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট। স্টিলথ প্রযুক্তির কারণে এই ধরনের জাহাজ শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। পাশাপাশি এতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। ফলে আকাশ, সমুদ্র ও সাবমেরিন—তিন দিক থেকেই সম্ভাব্য হামলার মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
এছাড়াও নৌবাহিনীর সাবমেরিন-বিরোধী সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ধরনের যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই জাহাজগুলির মূল কাজ সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিহত করা। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতেও এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে, আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজও নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের জাহাজ সমুদ্রের গভীরতা, তলদেশের গঠন এবং নিরাপদ নৌপথের তথ্য সংগ্রহ করে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কিংবা নতুন সমুদ্রপথ পরিকল্পনায় এই তথ্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় নৌবাহিনী ধারাবাহিকভাবে নিজেদের আধুনিকীকরণ করছে। নতুন জাহাজ ও প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের নৌক্ষমতা আরও সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছাবে।









