রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রতি মাসে বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই রেশনের চাল, গম ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর গুণমান নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। অনেক উপভোক্তার দাবি ছিল, নিম্নমানের চাল ও আটা সরবরাহ করা হচ্ছে। এবার সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কড়া পদক্ষেপ নিল খাদ্য দপ্তর। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশন ব্যবস্থায় বিতরণ করা খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) কার্যকর করা হয়েছে, যার আওতায় খাদ্যশস্যের নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, খাদ্য দপ্তরের গুদামে খাদ্যশস্য পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তার গুণগত মান পরীক্ষা করতে হবে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে যদি কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, পরিদর্শনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতি মাসে গুণমান পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খাদ্য দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়েও আচমকা রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের গুদামে পরিদর্শন চালানো হবে। এতে খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান বিভিন্ন অনুমোদিত রাইস মিলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উৎপাদিত চাল খাদ্য দপ্তরের গুদামে মজুত করা হয় এবং পরে রেশন দোকানে পৌঁছে দেওয়া হয়। একইভাবে এফসিআই-এর মাধ্যমে গম সরবরাহ করা হয়। খাদ্যমন্ত্রীর মতে, প্রতি কেজি চালের জন্য সরকারের প্রায় ৪২ টাকা খরচ হয়। তাই এত অর্থ ব্যয় করেও যদি নিম্নমানের খাদ্যশস্য বিতরণ হয়, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সম্প্রতি রেশনে আটা বিতরণের পরিবর্তে সরাসরি গম দেওয়ার উদ্যোগও শুরু হয়েছে। সরকারের আশা, নতুন নজরদারি ব্যবস্থার ফলে উপভোক্তারা আরও উন্নত মানের খাদ্যসামগ্রী পাবেন এবং রেশন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।









