ভারতীয় অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর। মার্কিন ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং ডলারের শক্তি কিছুটা দুর্বল হওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুধবারের লেনদেন শুরুর সময়েই ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা ৩১ পয়সা পর্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে বলে বাজার সূত্রে জানা গেছে।
ফরেক্স মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকালে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্য দাঁড়ায় ৯৪.২৯ টাকা। আগের ট্রেডিং সেশনে যেখানে ডলার-রুপি বিনিময় হার ছিল ৯৪.৬০ টাকা, সেখানে একদিনেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কমে যাওয়াই এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম নিম্নস্তর।
তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানি ব্যয়ও কমে যায়। যেহেতু ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ, তাই জ্বালানি আমদানিতে খরচ কমলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও হ্রাস পায়। এর সরাসরি সুফল দেখা যায় ভারতীয় টাকার মূল্যে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকটি ট্রেডিং সেশনে ভারতীয় টাকা প্রায় ১.৩০ টাকা পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির চূড়ান্ত ফলাফল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আগামী দিনের মুদ্রাবাজার অনেকটাই নির্ভর করবে। তবুও আপাতত ডলারের বিপরীতে টাকার এই শক্তিশালী অবস্থান ভারতীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।












