পশ্চিমবঙ্গে জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু ঘিরে ফের প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০১১ সালের পর থেকে জারি হওয়া সমস্ত এসসি, এসটি ও ওবিসি কাস্ট সার্টিফিকেট পুনরায় যাচাই করা হবে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা সমস্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
কী কী খতিয়ে দেখা হবে?
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে জারি হওয়া জাতিগত শংসাপত্রগুলির নথি, আবেদনপত্র ও বৈধতা নতুন করে পরীক্ষা করা হবে। মূল উদ্দেশ্য হল শংসাপত্র ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ভুয়ো নথি বা অনিয়ম রোধ করা। প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংরক্ষণের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তারাই পান, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
মন্ত্রীর অভিযোগে নতুন বিতর্ক
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু দাবি করেছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে বহু ভুয়ো ও গরমিল থাকা এসসি, এসটি ও ওবিসি শংসাপত্র তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সেই শংসাপত্র ব্যবহার করে বহু মানুষ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ভুয়ো শংসাপত্রধারীদের বিরুদ্ধেই নয়, এই ধরনের সার্টিফিকেট ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
হাইকোর্টের রায়ের পরেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ১৯৯৩ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস কমিশন আইনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই শংসাপত্র ইস্যু করা হয়নি। এরপর আদালত রাজ্য সরকারকে নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে সংশোধিত তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়। তবে নতুন তালিকা প্রকাশের পরেও গরমিলের অভিযোগ ওঠে। পরে ২০২৫ সালের ১৫ জুন সেই তালিকার উপরও স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে
এই পুনঃযাচাই প্রক্রিয়ার ফলে বহু সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরি, শিক্ষা বা অন্যান্য সংরক্ষণের সুবিধা পেয়ে আসছেন, তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, বৈধ নথিপত্র থাকা ব্যক্তিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এখন নজর রয়েছে, রাজ্য সরকারের এই রি-ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং দীর্ঘদিনের বিতর্কের স্থায়ী সমাধান আদৌ সম্ভব হয় কি না।










