পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর বাড়তি চাপের আশঙ্কার মধ্যে রুপো আমদানিতে বড় কড়াকড়ি করল কেন্দ্র সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিজিএফটি (DGFT) সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির রুপো আমদানির ক্ষেত্রে এবার থেকে আর ‘ফ্রি’ নীতি চালু থাকবে না। অর্থাৎ, বিদেশ থেকে রুপো আনতে হলে এখন সরকারের বিশেষ অনুমোদন বা লাইসেন্স লাগবে।
কোন রুপোর উপর নতুন নিয়ম?
ডিজিএফটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ITC HS Code 71069221 এবং 71069229-এর আওতায় থাকা 99.9 শতাংশ বা তার বেশি বিশুদ্ধতার রুপোর বার ও বুলিয়নের আমদানি নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন এই শ্রেণির রুপো ‘ফ্রি’ ক্যাটেগরির আওতায় থাকায় সহজেই বিদেশ থেকে আমদানি করা যেত। তবে এখন সেটিকে ‘রেস্ট্রিক্টেড’ বা সীমাবদ্ধ বিভাগে আনা হয়েছে।
এর ফলে এখন থেকে আমদানিকারকদের রুপো দেশে আনার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের রুপো আর সরাসরি আমদানি করা যাবে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে দেশে রুপো আমদানির পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে রুপো আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১১.০৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। মার্চ মাসেও রুপো আমদানিতে বড় বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সোনা ও রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুর অতিরিক্ত আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার সময়ে সরকার ডলার সঞ্চয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
The Government of India has tightened the policy regarding the import of silver bars, changing their status from ‘Free’ to ‘Restricted’ with immediate effect. pic.twitter.com/k4Zyq4W2rO
— ANI (@ANI) May 16, 2026
আমদানি শুল্কও বাড়ানো হয়েছে
সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার সোনা এবং রুপোর উপর আমদানি শুল্কও বাড়িয়েছে। আগে যেখানে শুল্কের হার ছিল ৬ শতাংশ, তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
মোদীর ‘সোনা না কেনার’ মন্তব্য নিয়ে কী সত্য?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাকি আগামী এক বছর সোনা না কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেন্দ্র সরকারের তরফে এমন কোনও সরকারি নির্দেশিকা বা নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি হয়নি। প্রধানমন্ত্রীও আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে এক বছরের জন্য সোনা কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেননি। তাই এই দাবি বিভ্রান্তিকর।
বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে সরকারের সতর্কতা
বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৬৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেল, সার এবং অন্যান্য জরুরি পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। সেই কারণেই মূল্যবান ধাতুর আমদানির উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে আগাম সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।










