ভারতের মূল ভূখণ্ডে নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্ষা প্রবেশ করতে চলেছে বলে বড় ইঙ্গিত দিল মৌসম ভবন। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষার প্রবেশ ঘটে। তবে গত দুই বছরের মতো এবারও মে মাসেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই আন্দামান সাগরের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষার প্রবেশ ঘটেছে। এর জেরে আগামী কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। আন্দামানের শ্রী বিজয়পুরম এলাকাতেও বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের একাংশেও মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়বে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদীয়া জেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এর সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। তার সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির জেরে দক্ষিণবঙ্গে প্রাক-বর্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে।
কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?
কলকাতাতেও আগামী কয়েকদিন আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। শহরে দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। এর জেরে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা আবহাওয়া পুরোপুরি কাটবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
উত্তরবঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টির দাপট
এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি ও জল জমার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
আগাম বর্ষা নিয়ে কী বলছে মৌসম ভবন?
আবহাওয়া দফতরের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে খুব শীঘ্রই কেরল উপকূলে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটতে পারে। তার প্রভাব ধীরে ধীরে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাংলায় বর্ষার পূর্বাভাস আরও স্পষ্ট হতে পারে। ফলে কৃষি, জলসংকট এবং গরম থেকে স্বস্তি— সবদিক থেকেই এই আগাম বর্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।










