পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে হুমায়ুন কবীর বিতর্ককে ঘিরে। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি কড়া অবস্থান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আদর্শের প্রশ্নে কোনওরকম আপস করতে রাজি নয় বিজেপি।
ইস্তাহার প্রকাশে শাহর বার্তা
শুক্রবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি বলেন, বিজেপি আগামী ২০ বছর বিরোধী আসনে বসে থাকতেও রাজি, কিন্তু বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চাওয়া কোনও দলের সঙ্গে জোট করবে না। এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের গুরুতর অভিযোগ
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস একটি সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ তোলে। একটি ১৯ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করে তারা দাবি করে, বিজেপির কাছে ১০০০ কোটি টাকা দাবি করেছেন হুমায়ুন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
হুমায়ুনের পাল্টা দাবি
হুমায়ুন কবীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
মমতাকে কটাক্ষ শাহর
অমিত শাহ এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে অনেকেই ধারণা রাখেন না। তিনি দাবি করেন, এমন হাজার হাজার ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিজেপি ও হুমায়ুন আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর।
মিমের জোট ভাঙা
এই বিতর্কের মধ্যেই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম হুমায়ুনের দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, মুসলিম সমাজের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এমন কোনও বিতর্কে তারা থাকতে চায় না। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিতর্কে নতুন মোড়
ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে হুমায়ুনের উপর। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে অপরকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হুমায়ুন কবীর বিতর্ক এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। বিজেপি, তৃণমূল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এই ইস্যুতে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।










