ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন আশা ভোঁসলে। কয়েক দশক ধরে তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছে গোটা বিশ্ব। সম্প্রতি তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতপ্রেমীরা। ৯২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, রেখে গেলেন এক বিশাল উত্তরাধিকার—শুধু গানের নয়, সম্পদের দিক থেকেও।
কীভাবে মৃত্যু হল?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং ICU-তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাল্টি অর্গান ফেলিওরই ছিল মৃত্যুর মূল কারণ।
গানের পাশাপাশি ব্যবসায়ও সফল
আশা ভোঁসলে শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবেই নন, একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ২০০২ সালে দুবাইয়ে ‘Asha’s’ নামে একটি রেস্তোরাঁ চেইন শুরু করেন।
এই রেস্তোরাঁর শাখা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে—বাহরিন, কুয়েত, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহামসহ একাধিক শহরে। এই ব্যবসা থেকেই তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।
মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত?
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আশা ভোঁসলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল।
গান, লাইভ শো, রয়্যালটি এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসা—সব মিলিয়ে তাঁর আয় ছিল বহুমুখী। এই কারণেই এত বড় সম্পদের মালিক হতে পেরেছিলেন তিনি।
বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ
শুধু নগদ অর্থ বা ব্যবসা নয়, মুম্বই, পুনে সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। এই বাড়িগুলির সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি বলে জানা যায়।
এই সমস্ত সম্পত্তিই ভবিষ্যতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছেলেদের জন্য কী রেখে গেলেন?
আশা ভোঁসলের এই বিপুল সম্পত্তি মূলত তাঁর পরিবার, বিশেষ করে সন্তানদের জন্যই রেখে যাওয়া হয়েছে। যদিও সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে অনুমান করা হচ্ছে তাঁর সম্পদের বড় অংশ পরিবারের কাছেই থাকবে।
সব মিলিয়ে, আশা ভোঁসলে শুধু একজন কিংবদন্তি গায়িকা নন, তিনি ছিলেন এক সফল ব্যক্তিত্ব যিনি সংগীত এবং ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই নিজের ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ যেমন বিশাল, তেমনই তাঁর অবদানও অমূল্য। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর গান, তাঁর সৃষ্টি এবং তাঁর উত্তরাধিকার চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের মনে।














