মহার্ঘ ভাতা (DA) ইস্যুতে ফের তীব্র বিতর্ক ছড়াল রাজ্যে। ৪% ডিএ ঘোষণার পরও টাকা না মেলায় ক্ষোভ উগরে দিলেন সরকারি কর্মীরা। এবার সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধি মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের উপর দায় চাপিয়ে প্রকৃত তথ্য আড়াল করা হচ্ছে। ফলে ডিএ ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে এবং আন্দোলনের সুরও জোরালো হচ্ছে। অনেকেই দ্রুত সমাধানের দাবি তুলে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
DA নিয়ে ফের সরব কর্মীরা
ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় ঘোষিত ৪% ডিএ এখনও কার্যকর না হওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন সরকারি কর্মীরা। ফেব্রুয়ারি মাসে বিধানসভায় এই ঘোষণা করা হলেও এপ্রিল পেরিয়ে গেলেও টাকা হাতে পাননি কর্মীরা। মলয় মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করছেন যে ডিএ ফাইল নির্বাচন কমিশন আটকে রেখেছে। কিন্তু এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করা কতটা সত্যি?
মলয়বাবুর বক্তব্য, যদি সত্যিই ফাইল পাঠানো হয়ে থাকে, তবে কেন তা ভোট ঘোষণার আগেই সম্পন্ন করা হয়নি? তাঁর দাবি, সরকারি কর্মীরাই এই ধরনের ফাইল প্রসেস করেন, ফলে ফাইল পাঠানো হলে তা অজানা থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, সরকারকে প্রমাণ দিতে হবে যে ফাইল আদৌ পাঠানো হয়েছে কি না। নইলে নির্বাচন কমিশনের উপর দায় চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।
বকেয়া DA নিয়েও ক্ষোভ
শুধু নতুন ডিএ নয়, পুরনো বকেয়া নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে KMC-র আওতায় থাকা কর্মীদের বকেয়া অর্থের হিসাব এখনও পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ। কেন এত দেরি হচ্ছে এবং অর্থ দফতর কেন চুপ—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গুরুতর অভিযোগ: ভোটে ব্যবহার হচ্ছে টাকা?
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মলয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ডিএ-র টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে তা অন্য কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। তিনি বলেন, বহু প্রবীণ পেনশনভোগী এখনও বকেয়া টাকা পাননি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ডিএ ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমনই সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। ৪% ডিএ কবে কার্যকর হবে এবং বকেয়া কবে মিটবে— সেই উত্তর এখনো অধরা। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। এখন দেখার, সরকার কবে এই জট কাটিয়ে কর্মীদের স্বস্তি দিতে পারে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মীদের চাপ বাড়লে সরকারের উপরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।











