গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে এবং জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে জব কার্ডধারীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য E-KYC এবং ফেস অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করলে ১২৫ দিনের কাজের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
কেন চালু হচ্ছে ফেস অথেন্টিকেশন?
আগে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের উপস্থিতি ম্যানুয়ালি নথিভুক্ত করা হতো। এর ফলে ভুয়ো উপস্থিতি বা অন্য কারও নামে কাজ করার অভিযোগ সামনে আসত। নতুন ব্যবস্থায় উপভোক্তার ছবি, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য এবং বায়োমেট্রিক তথ্য ডিজিটালভাবে যাচাই করা হবে। এর ফলে প্রকৃত জব কার্ডধারীই কাজে অংশ নিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
কীভাবে হবে E-KYC?
জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে উপভোক্তাদের ফেস অথেন্টিকেশন সম্পন্ন করা হবে।
প্রক্রিয়ার ধাপগুলি হলো—
- জব কার্ডধারীর পরিচয়পত্র যাচাই
- মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মুখের ছবি স্ক্যান
- ডেটাবেসে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা
- সফল যাচাইয়ের পর E-KYC সম্পূর্ণ
এই পদ্ধতি অনেকটা স্মার্টফোনের ফেস আনলক প্রযুক্তির মতো কাজ করবে।
E-KYC না করলে কী হবে?
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, E-KYC সম্পূর্ণ না হলে উপভোক্তারা কর্মসংস্থান প্রকল্পের অধীনে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই যাঁদের জব কার্ড রয়েছে, তাঁদের দ্রুত E-KYC প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দুর্নীতি রোধেই এই উদ্যোগ
প্রশাসনের দাবি, অতীতে কর্মসংস্থান প্রকল্পে ভুয়ো নাম, জাল উপস্থিতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ একাধিকবার সামনে এসেছে। নতুন ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থার ফলে এসব অনিয়ম অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফেস অথেন্টিকেশন চালু হলে প্রকৃত উপভোক্তাদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সরকারি অর্থ সঠিক ব্যক্তির কাছেই পৌঁছাবে।
কী লাভ হবে উপভোক্তাদের?
- পরিচয় যাচাই হবে দ্রুত
- ভুয়ো জব কার্ড ব্যবহারের সুযোগ কমবে
- প্রকৃত শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হবে
- অর্থপ্রদান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে
- সরকারি প্রকল্পে জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে
গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।









