রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয়েছিল দীঘার জগন্নাথ ধামের। আর এক বছরের আগেই এই মন্দির ছুঁয়ে ফেলল বিরাট সাফল্য। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এখনও এক বছর পূর্ণ হয়নি, তার আগেই ১ কোটি ৩৩ লক্ষেরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন এখানে। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিপুল ভক্তসমাগম মন্দিরের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে। ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও দীঘার গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে।
দ্রুত জনপ্রিয়তা
গত বছরের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধনের পর থেকেই এই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পাশাপাশি এখন দীঘাও হয়ে উঠেছে ভক্তদের অন্যতম গন্তব্য। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং দেশের নানা জায়গা থেকেও ভক্তরা নিয়মিত আসছেন এই মন্দিরে।
তীর্থক্ষেত্র হিসেবে উত্থান
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দীঘার জগন্নাথ ধাম এক বড় তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ইসকনের ভক্তদের উপস্থিতি এই মন্দিরের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
অর্থনীতিতেও প্রভাব
মন্দিরকে কেন্দ্র করে দীঘায় পর্যটন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল, ফুল-মালা দোকান এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয়ে বড় প্রভাব পড়েছে।
কী বলছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ?
দীঘার জগন্নাথ ধামের প্রধান পুরোহিত রাধারমন দাস জানিয়েছেন, “এই ১.৩৩ কোটিরও বেশি মানুষের আগমন শুধু সংখ্যা নয়, এটি ভগবান জগন্নাথের কৃপা।” তিনি আরও জানান, আগামীতেও এই ভক্তসমাগম আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামনে বড় উৎসব
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মন্দিরে আয়োজিত হতে চলেছে বিশেষ ব্রহ্ম উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি ভক্ত সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনও ভিড় সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামনে কী?
মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্দির ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভক্তদের ক্রমবর্ধমান আগমনে আগামী দিনে দীঘার গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের পর্যটন শিল্পেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।










