দেশে ফের সোনার দামে বড়সড় ওঠানামা নজরে পড়ছে, যার নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের টানাপোড়েন, ডলারের দামের পরিবর্তন এবং কাঁচা তেলের দামের অস্থিরতা। একদিকে দেশীয় বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দামে বড় লাফ, অন্যদিকে ফিউচার মার্কেটেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। ফলে বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতা—দু’পক্ষই এখন দ্বিধায়, এই সময়ে সোনা কেনা উচিত নাকি কিছুটা অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অখিল ভারতীয় সরাফা সংঘের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট (৯৯.৯% বিশুদ্ধ) সোনার দাম এক লাফে ৩,৭০০ টাকা বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। আগের দিন এই দাম ছিল ১,৪৭,৮০০ টাকা। একইসঙ্গে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ সোনার ফিউচার্স প্রায় ১.১৯% বেড়ে ১,৪৬,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে পৌঁছেছে। চলতি বছরে জানুয়ারিতে সোনা ইতিমধ্যেই ১,৮০,৭৭৯ টাকার সর্বোচ্চ স্তর ছুঁয়েছিল, যা বাজারে বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ক্যারেটভিত্তিক সোনার দাম ছিল—২৪ ক্যারেট ১,৪৬,৭৩৩ টাকা, ২৩ ক্যারেট ১,৪৬,১৪৫ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৩৪,৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১,১০,০৫০ টাকা এবং ১৪ ক্যারেট ৮৫,৮৩৯ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। দিনের মধ্যেই এই দামে ওঠানামা হয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতার স্পষ্ট প্রমাণ।
কলকাতায় মঙ্গলবার সকালে সোনার দামে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে দাঁড়িয়েছে ১,৪৮,২৭০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৩৫,৯১০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,১১,২০০ টাকা। গতকালের তুলনায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ১০ টাকা করে বৃদ্ধি হয়েছে। দুর্গাপুর, আসানসোল, শিলিগুড়ি, দমদম, ব্যারাকপুর, মালদহ, বহরমপুর, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়াতেও একই দাম বজায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দামের এই অস্থিরতার পেছনে প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। কাঁচা তেলের দামের ওঠানামা, ডলারের শক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষক প্রবীণ সিংহ জানিয়েছেন, তেলের দাম কমলে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝোঁকে, ফলে চাহিদা বাড়ে এবং দামও বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে জিগর ত্রিবেদীর মতে, আগের সেশনে দামের পতনের পর কম দামে কেনাকাটা বাড়ায় বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এখন প্রশ্ন—এই সময়ে সোনা কেনা উচিত, নাকি অপেক্ষা করা ভালো? বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। তবে যারা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কিছুটা অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের হতে পারে। কারণ বাজারে সাময়িক সংশোধন (correction) আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীরা ধাপে ধাপে (SIP পদ্ধতিতে) সোনা কিনলে ঝুঁকি কমাতে পারেন।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার বাজার একেবারেই অনিশ্চিত। তাই হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাজারের ট্রেন্ড পর্যবেক্ষণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল। কারণ আজকের ‘গোল্ড রাশ’ আগামীকাল ‘গোল্ড ট্র্যাপ’-এও পরিণত হতে পারে।











