মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG)–এর দাম বাড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মধ্যবিত্তের মধ্যে। মার্চ মাস প্রায় শেষ, আর সেই সঙ্গে সামনে ১ এপ্রিল—যেদিন প্রতি মাসের মতো নতুন করে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয় আন্তর্জাতিক বাজারের দরের ভিত্তিতে।
গ্যাসের দাম কি বাড়বেই?
ইরান–ইসরায়েল সংঘাত এবং তাতে আমেরিকার জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশেই জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে এলপিজির ওপর। ফলে ১ এপ্রিল থেকে গ্যাসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গুজব বনাম বাস্তবতা
সংঘাতের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘এনার্জি লকডাউন’ নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, করোনা সময়ের মতো আবারও জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনও আশঙ্কা ভিত্তিহীন।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে—
- দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে
- আগামী ৬০ দিনের জন্য তেল ও গ্যাসের রসদ সুরক্ষিত
- বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে
অতএব, লকডাউন বা জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা আপাতত নেই।
তবুও কেন উদ্বেগ?
সরকার আশ্বস্ত করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি। কারণ—
- আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি
- পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা
- জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি
এই সব মিলিয়ে এলপিজি, সিএনজি এবং পিএনজি—সব ধরনের গ্যাসের দামই বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কী হতে পারে ১ এপ্রিল?
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসের প্রথম দিনে তেল কোম্পানিগুলি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর ভিত্তি করে নতুন দাম ঘোষণা করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের মত—
- দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম
- স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি
- শহরভেদে দামের তারতম্য হতে পারে
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যদিও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাস দিয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে ১ এপ্রিল এলপিজির দাম বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নতুন মাসের শুরুতেই মধ্যবিত্তের বাজেটে চাপ বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।














