ভারতের পরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশেই তৈরি হচ্ছে প্রথম বুলেট ট্রেন B28। কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই এই ট্রেন প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিইএমএল কারখানায় ইতিমধ্যেই কোচ তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, যা দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ।
এই B28 বুলেট ট্রেনটি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার গতিতে চলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যাত্রী পরিষেবায় এটি প্রায় ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলবে বলে জানা গেছে। রেল মন্ত্রকের মতে, জাপান থেকে কোচ আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভারত এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে উচ্চগতির ট্রেন নির্মাণে সক্ষম হয়ে উঠেছে।
প্রথম পর্যায়ে এই ট্রেনটি মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অংশ হিসেবে চালানো হবে। গুজরাটের সুরাট থেকে ভাপী পর্যন্ত প্রায় ৯৭ কিলোমিটার রুটে পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে দেশের দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিচারের দিক থেকেও B28 ট্রেনটি অত্যাধুনিক। প্রতিটি ট্রেন সেটে থাকবে ৮টি কোচ এবং সম্পূর্ণ ট্রেনটি হবে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। যাত্রীদের আরামের কথা মাথায় রেখে এতে থাকবে হেলান দেওয়া যায় এমন আরামদায়ক আসন, ঘোরানো যায় এমন সিট, বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা এবং আধুনিক অনবোর্ড ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম। উন্নত অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি এই ট্রেন যাত্রাকে আরও আরামদায়ক ও বিশ্বমানের করে তুলবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত নিজেই উন্নতমানের বুলেট ট্রেন তৈরি করছে। প্রতিটি কোচ তৈরির খরচ প্রায় ২৭.৮৬ কোটি টাকা, যা বিদেশি কোচের তুলনায় অনেকটাই সাশ্রয়ী। পুরো প্রকল্পে প্রায় ৮৬৬.৮৭ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বুলেট ট্রেন শুধু পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নেবে। ২০২৭ সালে এই ট্রেন চালু হলে ভারতের রেল ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।











