নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের ইডির (Enforcement Directorate) তলব বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে। তবে এবার রেশন দুর্নীতি নয়, বরং পুরনো ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলাতেই তাঁকে ডেকেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি নুসরত বা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
নুসরতের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট প্রতারণার অভিযোগ
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে একটি সংস্থা ৪০০-রও বেশি প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে নেয়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল প্রায় ১০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়ার। কিন্তু অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ফ্ল্যাট তো দূরের কথা, বিনিয়োগকারীরা তাঁদের টাকাও ফেরত পাননি।
এই ঘটনায় বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ ওঠে, যে সংস্থা টাকা তুলেছিল, সেখানে ডিরেক্টর পদে যুক্ত ছিলেন নুসরত। সেই সূত্রেই তদন্তে নামে ইডি। ২০২৩ সালে এই মামলায় তাঁকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
দ্বিতীয়বার তলব ইডির
২০২৩ সালে জিজ্ঞাসাবাদের পর নুসরত জানিয়েছিলেন, তিনি নির্দোষ এবং ভবিষ্যতে তাঁকে আর ডাকা হবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস। তবে সেই ধারণা ভেঙে আবারও তাঁকে তলব করল ইডি। জানা গিয়েছে, প্রথমে কলকাতার দফতরে হাজিরা দিতে বলা হলেও, বর্তমানে শহরের বাইরে থাকায় তিনি সেখানে যেতে অপারগতা জানান। পরে দিল্লির সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গম পাচার মামলার জল্পনা
এর আগে রেশন গম পাচার মামলাতেও নুসরত জাহানকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। অভিযোগ ছিল, সাংসদ থাকাকালীন করোনাকালে বাংলাদেশে গম পাচারের সঙ্গে যুক্ত কিছু ঘটনার তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসে। সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু ট্রাক আটক হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছিল। তাই নতুন করে তলব ঘিরে প্রথমে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, গম পাচার মামলাতেই তাঁকে আবার ডাকা হয়েছে। কিন্তু পরে স্পষ্ট হয়, রাজারহাটের ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলাতেই দ্বিতীয়বার তলব করা হয়েছে তাঁকে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগেই এই তলব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সভা থেকে ইডি, সিবিআই-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন। এখন দেখার, এই মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব কতটা পড়ে।










