ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় সাফল্যের ছবি সামনে এল। দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা Adani Defence & Aerospace নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিল ২,০০০টি অত্যাধুনিক ‘প্রহর’ লাইট মেশিন গান (LMG)। এই ডেলিভারি ভারতীয় সেনার ফায়ারপাওয়ারকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তে দ্রুত ও নির্ভুল আক্রমণ ক্ষমতা বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এই সরবরাহ শুধু সেনার শক্তিই বাড়াবে না, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকেও আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সময়ের আগেই বড় সাফল্য
এই প্রকল্পটি প্রায় ৪০,০০০টি আধুনিক মেশিনগান সরবরাহের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১১ মাস আগেই প্রথম ব্যাচ সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের গতি ও দক্ষতার স্পষ্ট প্রমাণ।

কেমন এই ‘প্রহর’ মেশিনগান?
‘প্রহর’ একটি ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের আধুনিক লাইট মেশিন গান, যার কার্যকরী রেঞ্জ প্রায় ১,০০০ মিটার। প্রায় ৮ কেজি ওজনের এই অস্ত্রটি কঠিন যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই অস্ত্রে ৯০% এর বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা একে সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তির প্রতীক করে তুলেছে।
কোথায় ব্যবহার হবে?
এই মেশিনগান মূলত LAC ও LoC-এর মতো সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন করা হবে। দ্রুত ফায়ারিং ক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে এটি সেনার যুদ্ধক্ষমতা অনেকটাই বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র
গোয়ালিয়রের প্রায় ১০০ একরের অত্যাধুনিক প্ল্যান্টে এই অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। এখানে CNC মেশিনিং, রোবোটিক্স ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে অস্ত্র তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়। এই প্ল্যান্ট বছরে প্রায় ১,০০,০০০ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩০০ মিলিয়ন গোলাবারুদ উৎপাদন করতে সক্ষম।
কী বলছে সংস্থা?
সংস্থার সিইও আশীষ রাজবংশী জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি ডেলিভারি নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এক নতুন যুগের সূচনা। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে ভারত এখন নিজেই উন্নত অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রহরের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার সিস্টেম, কার্বাইন ও পিস্তল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে এই প্ল্যান্ট আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
‘প্রহর’ মেশিনগানের আগাম সরবরাহ ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি শুধু সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়াবে না, বরং দেশের আত্মনির্ভরতার দিকেও বড় পদক্ষেপ। সীমান্তে অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে এই ধরনের আধুনিক অস্ত্র বড় ভূমিকা নেবে। দেশীয় প্রযুক্তির এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা কৌশলকেও আরও মজবুত করবে। আগামী দিনে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।










