বিধানসভা নির্বাচনের আবহে আচমকাই সোমবার থেকে রাজ্য জুড়ে মদের দোকান বন্ধ হয়ে গেল। প্রথম দফার ভোটের নির্দিষ্ট এলাকায় নয়, কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যেই এই নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে সুরাপ্রেমীরা।
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় দোকানের সামনে ভিড়
রাজ্যের আবগারি দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার অর্থাৎ ২০ এপ্রিল থেকেই সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ফলে কলকাতার যাদবপুর, গড়িয়া, চৌরঙ্গী, বড়বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় মদের দোকানের সামনে ভিড় জমতে দেখা যায়। দোকান বন্ধ থাকায় অনেকেই হতবাক হয়ে পড়েন।
৪৮ ঘণ্টার নিয়ম, তবে এবার আরও কড়া ব্যবস্থা
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মদের দোকান বন্ধ রাখার কথা। তবে এবারে সেই নিয়ম আরও কঠোর করে রাজ্য জুড়ে কার্যকর করা হয়েছে।
কবে কবে বন্ধ থাকবে মদের দোকান
আবগারি দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত টানা চার দিন সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও আগাম ব্যবস্থা হিসেবে ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে-ও মদের দোকান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত
কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় যাতে কোনওভাবেই মদ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া নির্দেশ।
অস্বাভাবিক মদ বিক্রি বাড়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ
আবগারি দফতরের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, এপ্রিল মাসে হঠাৎ করেই মদের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই প্রবণতা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মদ বিলির অভিযোগও জমা পড়েছে।
নির্দেশিকা ঘিরে ধোঁয়াশা রয়ে গেল
তবে নির্দেশিকা ঘিরে কিছুটা ধোঁয়াশাও তৈরি হয়েছে। ২৪ এপ্রিল এবং ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মদের দোকান খোলা থাকবে কি না, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। ফলে ওই দিনগুলিতে দোকান খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
আগাম কড়া পদক্ষেপে বিপাকে সাধারণ মানুষ
প্রশাসনের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের মৌখিক বার্তা মেনেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও এই আচমকা সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।









