পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শুধু সরকারি হাসপাতাল নয়, এবার রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে হাসপাতালের লাইসেন্স নবীকরণের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এতদিন রাজ্যের বাসিন্দারা মূলত ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। তবে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (PM-JAY)। এই প্রকল্পের আওতায় একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৮ জুন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে। এরপর থেকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে। পাশাপাশি ‘স্বাস্থ্য সাথী’ এবং আয়ুষ্মান ভারত—দুটি প্রকল্পকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সাথী ও আয়ুষ্মান ভারত—দুটি প্রকল্পই একসঙ্গে চালু থাকবে। ফলে নতুন প্রকল্প চালু হলেও আপাতত স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। হাসপাতালগুলিকে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র জমা দিতে হবে এবং অনুমোদনের পর একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হবে। এরপর চিকিৎসক ও নার্সদের তথ্য নথিভুক্ত করে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ আরও বাড়বে এবং স্বাস্থ্য খাতে আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে।








