রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা। নির্বাচনী প্রচারে সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আর সেই কারণেই এখন প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হতে চলেছে? যদি তা হয়, তাহলে কতটা বাড়তে পারে বেতন? এই নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে সরকারি মহলে।
শীঘ্রই চালু হতে পারে সপ্তম পে কমিশন?
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই দাবিগুলি নিয়ে আবারও আশাবাদী হয়েছেন অনেকে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি, তবুও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাক্ট প্রকাশ করে, তাহলেই স্পষ্ট বোঝা যাবে কোন পদ্ধতিতে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে। তাঁর কথায়, সব কর্মচারীর বেতন একভাবে বাড়বে না। কারণ বিভিন্ন ক্যাডার অনুযায়ী বেতনের কাঠামো আলাদা হয়ে থাকে। এমনও কিছু পদ রয়েছে যেখানে রাজ্যের কর্মীরা কেন্দ্রীয় কর্মীদের তুলনায় বেশি বেতন পান।
কতটা বাড়তে পারে বেতন?
ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীর বেতনে অন্য রাজ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, এ রাজ্যে কোনও শিক্ষক যদি ৩৫ হাজার টাকা বেসিক পান, তাহলে অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ড বা ওড়িশার শিক্ষকদের বেসিক প্রায় ৪৪ হাজার টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকার ফারাক রয়েছে। তাঁর মতে, সপ্তম পে কমিশন সঠিকভাবে কার্যকর হলে এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ যোগ হলে অনেক কর্মচারীর মাসিক বেতন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বড় বৃদ্ধি
সপ্তম পে কমিশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ফ্যাক্টর ২.৫৭ ধরা হতে পারে। অর্থাৎ পুরনো বেসিক বেতনের প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কোনও সরকারি কর্মচারীর বর্তমান বেসিক বেতন ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী তা প্রায় ৫১ হাজার ৪০০ টাকায় পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি বর্তমানে ষষ্ঠ পে কমিশনে রাজ্য হারে যে ডিএ দেওয়া হচ্ছে, সপ্তম পে কমিশন চালু হলে তা কেন্দ্রীয় হারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
১৮ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত
সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর এখন আগামী ১৮ মে-র মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী বৈঠকে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, আগের বৈঠকে শুধুমাত্র সমাপ্ত ফাইলগুলির উপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী বৈঠকে ডিএ, সপ্তম বেতন কমিশন, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে রাজ্যের কর্মচারীদের মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ফলে নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী।








