বছরের পর বছর ধরে চলা ‘২৮ দিনের রিচার্জ ফাঁদ’ কি এবার সত্যিই বন্ধ হতে চলেছে? কেন্দ্র সরকারের কড়া অবস্থানের পর টেলিকম দুনিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। জিও, এয়ারটেল এবং ভোডাফোন-আইডিয়ার মতো বড় সংস্থাগুলিকে এবার সরাসরি বার্তা—গ্রাহকদের আর অতিরিক্ত রিচার্জে বাধ্য করা যাবে না!
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, ২৮ দিনের প্ল্যানের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বছরে ১২ বার নয়, ১৩ বার রিচার্জ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ অজান্তেই বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। এই বিষয়টি সংসদে তুলেই সরব হন সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তাঁর দাবি—এটি সরাসরি গ্রাহকদের পকেট কাটার একটি কৌশল।
এবার সরকারের কড়া অবস্থান
কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। টেলিকম কোম্পানিগুলিকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—গ্রাহকদের স্বার্থ সবার আগে। ফলে ৩০ দিনের ভ্যালিডিটি প্ল্যান বাধ্যতামূলক করার দিকেই জোর দিচ্ছে সরকার।
এর আগেই TRAI নির্দেশ দিয়েছিল, প্রতিটি প্ল্যান ক্যাটাগরিতে অন্তত একটি ৩০ দিনের বিকল্প রাখতে হবে। তবে এবার সেই নির্দেশ আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার চাপ তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের লাভ কোথায়?
- বছরে ১৩ বার নয়, ১২ বার রিচার্জেই চলবে
- অতিরিক্ত খরচ কমবে
- বারবার রিচার্জের ঝামেলা কমবে
- ডেটা ও ভ্যালিডিটির ভালো ব্যবহার সম্ভব হবে
সবচেয়ে বড় কথা, ব্যবহারকারীরা নিজেদের খরচের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবেন।
২৮ দিনের প্ল্যান কেন এত বিতর্কিত?
এই প্ল্যানগুলো দেখতে মাসিক মনে হলেও আসলে ক্যালেন্ডার মাসের সঙ্গে মিল নেই। ফলে প্রতি বছর প্রায় একবার বাড়তি রিচার্জ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্ল্যান শেষ হলেই ইনকামিং পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে—বিশেষ করে OTP বা জরুরি কলের ক্ষেত্রে।
সামনে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব শীঘ্রই বাজারে আরও বেশি ৩০ দিনের এবং ‘১ মাস’ ভ্যালিডিটির প্ল্যান দেখা যেতে পারে। কিছু সংস্থা ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
টেলিকম কোম্পানিগুলির দীর্ঘদিনের কৌশলের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। যদি ৩০ দিনের প্ল্যান বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে কোটি কোটি গ্রাহকের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর হতে পারে। এখন দেখার, এই পরিবর্তন বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়।











