কেকেআর তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ এবং দ্বিতীয় ম্যাচ ইডেন গার্ডেন্সে হলেও দুই ম্যাচেই নিজের ছন্দে দেখা যায়নি বরুণকে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি তিনি। এরপর সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে মাত্র ২ ওভারে ৩১ রান খরচ করে আরও চাপে পড়েন। ফলে মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকাতে ব্যর্থ হয় কেকেআর, যা দলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কঠোর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত আগেই
ম্যাচের আগেই অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, টানা হারের পর দলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সেই অনুযায়ী পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে বরুণকে বসিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে সুযোগ পান নবদীপ সাইনি, যিনি দীর্ঘ তিন বছর পর আইপিএলের মঞ্চে ফিরলেন।
দলগঠনে চমক KKR-এর
দলের কম্বিনেশনেও দেখা যায় চমক। ক্যামেরন গ্রিন ও রোভম্যান পাওয়েল—দু’জনকেই একসঙ্গে খেলানো হয়। পাশাপাশি অভিজ্ঞ সুনীল নারাইনকেও বাইরে রাখা হয়, যা আরও প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচনে। এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, কেকেআর এবার আগ্রাসী ব্যাটিং ও পেস আক্রমণের ওপর বেশি জোর দিতে চাইছে। মিডল ওভার নিয়ন্ত্রণের বদলে ম্যাচে দ্রুত গতি আনার কৌশল নিয়েছে দল। তবে স্পিন শক্তি কমে যাওয়ায় ঝুঁকিও বেড়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বরুণ চক্রবর্তী ও জসপ্রীত বুমরা যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন। সেই পারফরম্যান্সের পরও মাত্র কয়েকটি ম্যাচের ভিত্তিতে তাঁকে বাদ দেওয়ায় সমর্থকদের একাংশ ক্ষুব্ধ। অনেকেই মনে করছেন, একজন ম্যাচ উইনারকে আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে আইপিএলের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক বেশি।
সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
তবে দলের একাংশ মনে করছে, ফর্মই শেষ কথা। বর্তমান পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু সমর্থক আবার এই সিদ্ধান্তকে সাহসী পদক্ষেপ বলেও ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের মতে, দলকে জিততে হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। সব মিলিয়ে, বরুণ চক্রবর্তীর বাদ পড়া শুধু একটি পরিবর্তন নয়, বরং কেকেআরের কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত মাঠে কতটা প্রভাব ফেলে।













