বকেয়া মিটলেও মিলল না প্রতিশ্রুত মহার্ঘ্য ভাতা। রাজ্য সরকারের বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ এখনও হাতে না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষক ও সরকারি কর্মীরা। এরই মধ্যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনের আগে ডিএ ইস্যু গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসক দলের জন্য। সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ কি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

DA না পেয়ে রেগে কাঁই শিক্ষকরা
এতদিন প্রশ্ন ছিল, কবে মিলবে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া টাকার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছে। দুই কিস্তিতে এই টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম কিস্তি মিলেছে, দ্বিতীয় কিস্তি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়ার কথা। তবে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ ঘিরে। এখনও পর্যন্ত এই বাড়তি ভাতা হাতে না পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে শিক্ষক মহলে।
১৮% থেকে ২২%—কোথায় সেই টাকা?
বর্তমানে সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছেন। বাজেট ঘোষণায় তা বেড়ে ২২ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই টাকা এখনও মেলেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ঘোষণার পরেও কেন এত দেরি? শিক্ষকরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এই বঞ্চনার জবাব তাঁরা নির্বাচনে দেবেন।
প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ
শিক্ষকদের অভিযোগ, একদিকে পুরনো বকেয়া পুরোপুরি মেলেনি, অন্যদিকে নতুন ডিএ-ও কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি হেলথ স্কিম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, ‘সমস্ত সরকারি কাজ আমাদের দিয়ে করানো হচ্ছে, অথচ প্রাপ্য সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।’
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাসের কথায়, ‘বিধানসভায় ঘোষণার এতদিন পরেও কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ অপরদিকে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন এপ্রিল থেকেই ৪ শতাংশ ডিএ কার্যকর হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নবান্ন থেকে কোনও নির্দেশ জারি হয়নি।’
ভোটে পড়তে পারে প্রভাব?
শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, এই বঞ্চনার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন নির্বাচনে। ইতিমধ্যেই বহু কর্মী বেতন বিল জমা দিতে দেরি করছেন বলে খবর। পোস্টাল ব্যালটের ভোটের আগে এই ইস্যু আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ফলে ডিএ ইস্যু যে আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ফ্যাক্টর হতে চলেছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।











