ইডেন গার্ডেন্সে আরেকটি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটপ্রেমীরা। কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করেও জয় তুলে নিতে পারল না কেকেআর। জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হাতছাড়া করে নাইটরা। ফলে টানা তৃতীয় হারের মুখ দেখতে হল দলকে, যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা।
ব্যাটিংয়ে লড়াই গড়ল কেকেআর
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে কেকেআর। শুরুটা ভালো হয়নি, দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। ওপেনার ফিন অ্যালেন সস্তায় আউট হয়ে গেলে চাপ আরও বাড়ে। তবে অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে দায়িত্ব নিয়ে খেলেন এবং তরুণ অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
দুজন মিলে ইনিংসকে স্থির করেন এবং মাঝের ওভারগুলোতে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। এই জুটির উপর ভর করেই কেকেআর লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছায়।
শেষ দিকে গতি পায় ইনিংস
শেষ কয়েক ওভারে রভম্যান পাওয়েল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে স্কোর বাড়ান। তাঁর দ্রুত রান তোলার ফলে ম্যাচে বাড়তি গতি আসে। ক্যামেরন গ্রিনও গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন এবং দলকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেন।
১৮০ পেরোনো স্কোর টি-টোয়েন্টিতে লড়াই করার মতো হলেও, লখনউয়ের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে তা যথেষ্ট হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
লখনউয়ের জবাবি ইনিংস
রান তাড়া করতে নেমে লখনউ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে। এডেন মার্করাম ও আয়ুশ বাদোনি ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। বিশেষ করে বাদোনি গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন।
তবে ম্যাচ একসময় কেকেআরের দিকেও ঘুরতে শুরু করে। সুনীল নারিন ও অন্যান্য বোলাররা পরপর উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। শেষ কয়েক ওভারে ম্যাচ পুরোপুরি খোলা হয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তে মুকুলের ঝড়
যখন মনে হচ্ছিল কেকেআর ম্যাচ জিতে যেতে পারে, ঠিক তখনই দৃশ্যপট বদলে দেন মুকুল চৌধুরী। তিনি নির্ভীক ব্যাটিং করে চাপের মুহূর্তে রান তুলতে থাকেন। মাত্র ২৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ একাই ঘুরিয়ে দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত লখনউ সহজেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে এবং কেকেআরের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নেয়।
কেকেআরের চিন্তা বাড়ছে
এই হারের ফলে কেকেআরের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। টানা তিন ম্যাচ হারায় দলের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়েছে। ব্যাটিং, বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। পয়েন্ট টেবিলেও নিচের দিকে চলে গেছে দল। এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
সব মিলিয়ে, এটি ছিল একদম ক্লাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ—যেখানে শেষ মুহূর্তে সবকিছু বদলে যায়। কেকেআর ভালো লড়াই করলেও শেষ ধাক্কা সামলাতে পারেনি। অন্যদিকে, মুকুল চৌধুরীর দুর্দান্ত ইনিংস লখনউকে জয়ের পথে নিয়ে যায়।
ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা আবারও প্রমাণিত হল—শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।














