আবেদন করেও এখনও অনেকেই যুবসাথীর টাকা পাননি—এই নিয়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। অনেকেই চিন্তায় পড়েছেন, আদৌ কি এই টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? ঠিক এই পরিস্থিতিতেই বড় আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা অনেকের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিধানসভা ভোটের আগে জনসভা থেকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যাদের টাকা এখনও মেলেনি তাদের জন্য প্রসেস চলছে এবং ধাপে ধাপে সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ, যারা এখনও টাকা পাননি তাদের হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকার ইতিমধ্যেই আবেদনগুলির যাচাই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং সেই কাজ শেষ হলেই টাকা ট্রান্সফার করা হবে।
যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবকদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই হিসাবে বছরে মোট ১৮,০০০ টাকা পাওয়া সম্ভব, যা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল বেকার যুবকদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া, যাতে তারা চাকরি খোঁজার সময় ন্যূনতম খরচ চালাতে পারেন।

তবে শুরু থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কখন টাকা দেওয়া হবে, কাদের আগে দেওয়া হবে—এইসব প্রশ্নে অনেকেই অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তার ওপর একাধিকবার সময়সীমা পরিবর্তন হওয়ায় অনেক আবেদনকারী দেরিতে টাকা পাচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সমস্ত আবেদন পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কোনওভাবেই বাদ দেওয়া হবে না। যাদের কাগজপত্র সঠিক এবং যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে, তাদের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। বাকিদের ক্ষেত্রেও খুব শীঘ্রই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য রাখা এবং সঠিক তথ্যের উপর ভরসা করা। কারণ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে—যারা পাওয়ার যোগ্য, তাদের কেউ বঞ্চিত হবেন না। তাই আতঙ্ক নয়, একটু অপেক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সমাধান।









