ডিএ (Dearness Allowance) এবং অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষা করছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, যা কার্যকর হলে কর্মীদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ন্যূনতম বেতন কি সত্যিই ৬৯,০০০ টাকা হবে?
জাতীয় পরিষদ (JCM)-এর খসড়া কমিটি সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমান ১৮,০০০ টাকার ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করা হতে পারে। এর জন্য ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—এটি এখনও শুধুমাত্র প্রস্তাব। সরকারিভাবে এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হতে পারে নতুন কাঠামো
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বছরে ৬% ইনক্রিমেন্টের কথাও বলা হয়েছে।
বেতন কাঠামো সহজ করার প্রস্তাব
বর্তমানে সপ্তম পে কমিশনে ১৮টি লেভেল রয়েছে। সেটিকে কমিয়ে ৭টি স্তরে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং কর্মীরা দীর্ঘদিন একই স্তরে আটকে থাকবেন না।
পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে বড় দাবি
খসড়া প্রস্তাবে পেনশন নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে—
- পুরোনো পেনশন স্কিম (OPS) পুনরায় চালুর দাবি
- শেষ বেতনের ৬৭% পর্যন্ত পেনশন নির্ধারণ
- পারিবারিক পেনশন ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি
- ৩০ বছরে অন্তত ৫টি পদোন্নতির সুযোগ
ভাতা ও ছুটির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
প্রস্তাব অনুযায়ী—
- HRA বাড়িয়ে মেট্রো শহরে ৩০% বা তার বেশি করার দাবি
- উন্নত বীমা সুবিধা
- ডিউটির সময় মৃত্যু হলে বেশি ক্ষতিপূরণ
- ছুটি নগদায়নের সীমা তুলে দেওয়া
- মাতৃত্বকালীন ছুটি ২৪০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি
- পিতৃত্বকালীন ও অভিভাবক পরিচর্যার ছুটি বাড়ানো
অষ্টম পে কমিশন নিয়ে এই প্রস্তাবগুলি সরকারি কর্মীদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো কেন্দ্র সরকারের উপর নির্ভর করছে। তাই ৬৯,০০০ টাকার ন্যূনতম বেতন কার্যকর হবে কিনা, তা জানতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতেই হবে।










