টলিউডে ফের উদ্বেগের ছায়া। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছেন পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ নেই। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আনন্দপুরে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাবার মৃত্যুর পর নিমতা এলাকায় ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে যাওয়ার কথা বলে বেরোন উৎসব। তবে অদ্ভুতভাবে নিজের মোবাইল ফোনটি বাড়িতেই রেখে যান তিনি, সঙ্গে নেন বাবার পুরনো ফোন। এরপর থেকেই শুরু হয় রহস্য।
বাড়ি থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণ পরই সেই ফোনটিও সুইচ অফ হয়ে যায়। রাত পর্যন্ত কোনও যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বেগে ভেঙে পড়েন স্ত্রী মৌপিয়া মুখোপাধ্যায়। শেষমেশ আনন্দপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উৎসবের শেষ টাওয়ার লোকেশন ধরা পড়েছে উল্টোডাঙা এলাকার বিধাননগর রোড স্টেশনের কাছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নির্দিষ্ট গন্তব্য নিমতা থেকে হঠাৎ করে উল্টোডাঙায় কেন গেলেন তিনি? এই অসামঞ্জস্যই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।
ইতিমধ্যেই উল্টোডাঙা এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং পরিচিত মহলেও খোঁজ চালানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না—অপহরণ থেকে শুরু করে অন্য কোনও ব্যক্তিগত বা পেশাগত কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্ত্রীর দাবি, ব্যাঙ্ক ছাড়াও এক প্রযোজকের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল উৎসবের। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও আর বাস্তবায়িত হয়নি। হঠাৎ এই অন্তর্ধান স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। সম্প্রতি তাঁর বিয়ে হয়েছে, তার ওপর বাবার মৃত্যু—এই মানসিক পরিস্থিতির মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
উৎসব মুখোপাধ্যায় টলিউডে পরিচিত নাম। একাধিক ছবির চিত্রনাট্য এবং পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ‘ভীতু’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ থেকে শুরু করে অনীক দত্তর ‘অপরাজিত’ ছবির চিত্রনাট্যও তাঁরই লেখা। ফলে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবরে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত টলি ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—উৎসব কোথায়? তিনি কি কোনও বিপদের মধ্যে পড়েছেন, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? তদন্ত এগোচ্ছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। সময় যত এগোচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এখন সকলের একটাই প্রার্থনা—সুস্থভাবে ফিরে আসুন উৎসব মুখোপাধ্যায়।














