রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। দীর্ঘদিনের বিতর্ক, আদালতের কড়া নির্দেশ এবং চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের পর অবশেষে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার OMR শিট প্রকাশ করতে শুরু করল কমিশন। প্রথম পর্যায়ে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের OMR শিট SSC-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই গ্রুপ C এবং গ্রুপ D চাকরিপ্রার্থীদের OMR-ও প্রকাশ করা হবে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় OMR শিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ উঠছিল। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ দাবি করেছিলেন, নম্বর বদল, OMR ফাঁকা থাকা এবং কারচুপির মতো অনিয়ম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ OMR প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে রয়েছে এই OMR শিটগুলির মধ্যেই। পরে সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় মামলাকারীদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। আগামীকাল সেই মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগেই SSC-র এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
SSC-র ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই আপলোড করা হয়েছে স্ক্যান করা OMR শিটের ছবি। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের রোল নম্বর ব্যবহার করে সহজেই সেই OMR দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন। চাকরিপ্রার্থীদের মতে, এর ফলে বহুদিনের সংশয় কাটবে এবং কে কত নম্বর পেয়েছিলেন বা কোথায় কী অসঙ্গতি ছিল তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এদিকে ‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক সুমন বিশ্বাস সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই SSC OMR প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সরকার পরিবর্তনের পরেই এই প্রক্রিয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
চাকরিহারাদের একাংশ ইতিমধ্যেই ১৩ মে SSC ভবনে ডেপুটেশনের ডাক দিয়েছেন। করুণাময়ী মোড়ে শান্তিপূর্ণ জমায়েত করে SSC চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এছাড়াও শহীদ মিনারে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে CBI যে হার্ডডিস্ক উদ্ধার করেছিল, সেখান থেকেই এই OMR শিটগুলি পাওয়া যায়। SSC জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই CBI-এর কাছ থেকে পাওয়া স্ক্যান করা OMR-এর ছবিগুলি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।










