গ্রামীণ ভারতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫’ বা মনরেগার নাম বদলে করা হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’। সংক্ষেপে যার নাম ‘ভিবিজিরামজি’। সোমবার এই নতুন আইন কার্যকর করার জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
এর আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ১০০ দিনের কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব পাশ হয়েছিল লোকসভা ও রাজ্যসভায়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এবার তা কার্যকর করার পথে এগোল কেন্দ্র। নতুন প্রকল্পের জন্য ৯৫,৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
১ জুলাই থেকে কার্যকর নতুন প্রকল্প
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে সারা দেশে ‘ভিবিজিরামজি’ প্রকল্পে রূপান্তর সম্পূর্ণ করা হবে। বর্তমান জব কার্ডগুলিও বৈধ থাকবে। গ্রামীণ পরিবারের সাবালক স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে।
নতুন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে বা সর্বাধিক ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি দেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পেলে শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণের দাবিও করতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যেই নতুন কাঠামো
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় কাজের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।
ঘটনাচক্রে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পরেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজনৈতিক মহলেও তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।










