শ্রমিক ও কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি দিতেই হবে। একদিনও দেরি করা যাবে না। মূলত বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কাজ করা দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক মজুরি প্রাপ্ত শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখেই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। পাশাপাশি শুক্রবার রাতে চারটি শ্রম কোড আইন কার্যকর করার গেজেট বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও শ্রমিক বা কর্মচারীকে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। যদি কোনও সংস্থা অতিরিক্ত সময় কাজ করায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে নির্ধারিত মজুরির দ্বিগুণ অর্থ দিতে বাধ্য থাকবে মালিকপক্ষ। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি।
মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ
নতুন শ্রম কোড আইনে মহিলা শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের সম কাজে সম মজুরি দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিক সংগঠনগুলি এই দাবিগুলি জানিয়ে আসছিল।
মজুরি প্রদানের সময়সীমা কী?
অর্থমন্ত্রকের নির্দেশিকায় বিভিন্ন ধরনের মজুরি প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে—
- দৈনিক মজুরি প্রাপ্ত শ্রমিকদের শিফট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টাকা মিটিয়ে দিতে হবে।
- সাপ্তাহিক মজুরি প্রাপ্তদের বেতন দিতে হবে সপ্তাহের ছুটি শুরুর আগেই।
- পাক্ষিক মজুরি পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ দু’দিনের মধ্যে পারিশ্রমিক মেটাতে হবে।
- মাসিক বেতনভুক্ত কর্মীদের মাস শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে বেতন দিতে হবে।
এছাড়া নগদের বদলে ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে মজুরি দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার সংস্থাগুলিকে মজুরি প্রদানের পর লিখিতভাবে ‘প্রিন্সিপাল এমপ্লয়ার’-কে তা জানাতেও বাধ্য করা হয়েছে।
বিরোধিতায় শ্রমিক সংগঠনগুলি
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছে একাধিক সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন। শনিবার দিল্লিতে এই ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখায় সিটু। পাশাপাশি ১০টি ডান ও বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন যৌথভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। সিপিএম পলিটব্যুরোর অভিযোগ, কেন্দ্র একতরফাভাবে এই শ্রম কোড কার্যকর করতে পারে না। তাদের মতে, প্রতিটি রাজ্যকে আলাদাভাবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকর করতে হবে। ফলে নতুন শ্রম কোড বাস্তবায়ন নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।











