টলিউডে দীর্ঘ পাঁচ বছর কাজের অভাব, আর্থিক সংকট, বাড়ি-গাড়ি বিক্রি করার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভেঙে পড়েননি অভিনেতা তথা শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের কঠিন সময়, ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। একই সঙ্গে হাওড়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নাগরিক পরিষেবা ও শিল্প ফেরানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পাঁচ বছরে মাত্র ৭০ দিনের কাজ
রুদ্রনীলের কথায়, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছরে তিনি মাত্র ৭০ থেকে ৭২ দিন কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অনেক পরিচালকই তাঁকে কাজ দিতে ভয় পেতেন। কারণ তাঁকে সুযোগ দিলে অন্যদের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে— এমন আশঙ্কা ছিল ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মধ্যে। এই দীর্ঘ সময় মানসিক ও আর্থিক চাপের মধ্যে কাটাতে হয়েছে অভিনেতাকে। তিনি জানান, নিজের প্রথম কেনা বাড়িটিও বিক্রি করতে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি নিজের গাড়িও বিক্রি করেছেন। বাড়ির ব্যালকনিতে বসে অসংখ্য কষ্টের মুহূর্ত কাটানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ক্ষোভ, আবার কৃতজ্ঞতাও
রুদ্রনীল বলেন, এই কঠিন সময়ে ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়াননি। কেউ ফোন করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেননি বলেও আক্ষেপ করেন তিনি। তবে কয়েকজন পরিচালকের প্রতি আজও তিনি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রদ্বীপ দাশগুপ্তর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মানুষগুলো তাঁকে ভালোবেসে কাজের সুযোগ দিয়েছেন। তাই তাঁদের প্রতি তাঁর আলাদা সম্মান রয়েছে।
অভিনেতা থেকে বিধায়ক, বেড়েছে দায়িত্ব
বর্তমানে শুধু অভিনেতা নন, রুদ্রনীল ঘোষ এখন হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রের বিধায়কও। ফলে তাঁর দায়িত্ব অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছেন তিনি। বাংলা সিনেমার উন্নতির জন্য যেমন কাজ করতে চান, তেমনই নিজের এলাকার মানুষের জন্যও বড় পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
হাওড়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিল্প ফেরানোর পরিকল্পনা
শিবপুরের মানুষের জন্য কী করতে চান, সেই প্রশ্নের উত্তরে রুদ্রনীল জানান, সবার আগে নাগরিক পরিষেবাকে ঠিক করতে হবে। তাঁর মতে, হাওড়ার স্বাস্থ্য পরিষেবার বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ এবং সেটিকে দ্রুত উন্নত করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলিকে আবার চালু করার কথাও বলেন তিনি। শিল্প ফেরানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাকে তিনি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন। রুদ্রনীলের বক্তব্য, মানুষের জীবনে রোজগার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই সেই জায়গায় বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন।
রাজনীতি ও অভিনয়ের মধ্যে ভারসাম্যের চেষ্টা
রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় থাকলেও অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চান না রুদ্রনীল। তাঁর দাবি, বাংলা সিনেমার মঙ্গল কামনায় তিনি সবসময় কাজ করে যেতে চান। তবে একই সঙ্গে বিধায়ক হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে তাঁকে। টলিউডের কঠিন সময় পেরিয়ে এখন নতুন অধ্যায়ে এগোতে চাইছেন রুদ্রনীল ঘোষ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম থেকে রাজনৈতিক দায়িত্ব— দুই ক্ষেত্রেই তাঁর লড়াই এবং পরিকল্পনা এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।










