পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার সাধারণ মানুষের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বিদ্যুতের বিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার মধ্যেই এবার ইলেকট্রিসিটি বিল (Electric Bill) বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির তরফে ফিক্সড মান্থলি ইলেকট্রিসিটি চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদ্যুৎ খরচ কম হলেও গ্রাহকদের বেশি বিল গুনতে হতে পারে।
বাড়তে পারে ফিক্সড চার্জ
বর্তমানে বিদ্যুতের বিল মূলত ইউনিট খরচের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বিলের একটি বড় অংশ হতে পারে নির্দিষ্ট মাসিক চার্জ বা ফিক্সড চার্জ। অর্থাৎ কোনও পরিবার কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তাদের একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রতি মাসে দিতেই হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলেও বিলের অঙ্ক খুব বেশি কমবে না।
কেন বাড়ানো হচ্ছে চার্জ?
সূত্রের খবর, দেশের বিভিন্ন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বর্তমানে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেই ক্ষতি পূরণ করতেই এই নতুন প্রস্তাব আনা হচ্ছে।
আসলে সাম্প্রতিক সময়ে বহু গৃহস্থ বাড়িতে রুফটপ সোলার সিস্টেম বসানো হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের একাংশ আগের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলির আয়ের উপর।
শুধু গৃহস্থ নয়, বিভিন্ন শিল্প সংস্থাও এখন ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটা বড় অংশ নিজেরাই উৎপাদন করছে। এর ফলেও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলির আয় কমছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
শীঘ্রই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে যাবে প্রস্তাব
জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই ফোরাম অফ রেগুলেটরসের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে। সেখানে অনুমোদন মিললে বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে নতুন চার্জ কাঠামো চালু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের নজর এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
সাধারণ মানুষের বাড়বে উদ্বেগ
মূল্যবৃদ্ধির বাজারে রান্নার গ্যাস, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর এবার বিদ্যুতের বিল বাড়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে গরমের মরশুমে ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকেই অতিরিক্ত খরচের চাপ সামলাতে হতে পারে।








