নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড়সড় চাঞ্চল্য তৈরি হল। রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা I-PAC-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বিনেশ চান্দেলকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হল?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোমবার রাতে দিল্লি থেকেই বিনেশ চান্দেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরই তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁকে ED-এর হেফাজতে রাখা হবে।
মামলার পেছনের অভিযোগ কী?
জানা গিয়েছে, এই মামলার সূত্রপাত হয় দিল্লির অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে। গত ২৪ মার্চ প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রুজু হয়। অভিযোগ, I-PAC বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে ED।
আগের তল্লাশি অভিযান
এর আগে এই মামলায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ২ এপ্রিল দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় ED।
সেই সময় বিনেশ চান্দেলের দিল্লির বাড়ি এবং I-PAC-এর অপর কর্তা ঋষি রাজ সিংয়ের বাসভবনেও তল্লাশি হয়।
এছাড়া ৮ জানুয়ারি কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং I-PAC-এর অফিসেও অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই গ্রেপ্তারির পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সুবিধামতো তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তদন্ত এখনও চলমান
এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত এগোলে সামনে আরও নতুন তথ্য আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, I-PAC ডিরেক্টরের গ্রেপ্তারি নির্বাচন পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।










