আইপিএল ২০২৬-এর মরশুম শুরু হতে না হতেই ঘোর সংকটে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন দলটির পারফরম্যান্স এবার এখনও পর্যন্ত সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। টানা ব্যর্থতায় চাপে নাইট শিবির। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দলের ভেতরে কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সমর্থকদের হতাশা ক্রমেই বাড়ছে ম্যাচের পর ম্যাচ খারাপ পারফরম্যান্সে। এখন ঘুরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নাইটদের সামনে।

লিগ টেবিলের তলানিতে KKR
এখনও পর্যন্ত খেলা চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হার মানতে হয়েছে কেকেআর-কে, আর একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেছে। মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তলানিতে পড়ে থাকা দলটি এখন কার্যত খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে প্লে-অফের আশা কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে।
৩৮ কোটি টাকার তারকারা ব্যর্থ
এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ নিলামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা তারকা খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা। অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে প্রায় ২৫.২০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে দলে নিয়েছিল কেকেআর, কিন্তু তিনি এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে, সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংও রয়েছেন ফর্মের বাইরে। এই দুই ক্রিকেটারের পিছনে খরচ করা প্রায় ৩৮ কোটি টাকা কার্যত জলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে মত ক্রিকেট মহলের।
ব্যাটিং ভেঙে পড়ছে মাঝপথে
দলের ব্যাটিং বিভাগ এখন বড় চিন্তার কারণ। ওপেনিং ও টপ অর্ডার কিছুটা লড়াই করলেও মিডল অর্ডার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। যে রিঙ্কুকে ‘ফিনিশার’ হিসেবে ভাবা হয়েছিল, তিনি ম্যাচ শেষ করতে পারছেন না। ফলে বড় স্কোর গড়া কিংবা রান তাড়া করা—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়ছে কেকেআর। চাপের মুখে বারবার ভেঙে পড়ছে দল।
বোলিংয়েও নেই ধার
বোলিং আক্রমণও এই মরশুমে একেবারেই নখদন্তহীন। দলের প্রধান স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী চোটের কারণে বাইরে থাকায় ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। অভিজ্ঞ সুনীল নারিনও তাঁর পুরনো ছন্দে নেই। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকাতে না পারা কেকেআরের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা সহজেই আধিপত্য বিস্তার করছে।
কোথায় ভুল নাইটদের?
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, কেকেআরের সবচেয়ে বড় সমস্যা সঠিক দল নির্বাচন এবং খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট ভূমিকা ঠিক করতে না পারা। বারবার কম্বিনেশন বদল করায় দল স্থিরতা পাচ্ছে না। দামী খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা এবং পরিকল্পনার অভাব মিলিয়ে এই মুহূর্তে কঠিন পরিস্থিতিতে নাইটরা। দ্রুত রণকৌশল বদল না আনলে ২০২৬ মরশুমটি তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে।













