চলতি আইপিএল মরশুমে শুরুটা একেবারেই সুখকর ছিল না কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য। প্রথম ছ’টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই হারতে হয়েছিল অজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বাধীন দলকে। একটি ম্যাচ আবার বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। ফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই কার্যত চাপে পড়ে গিয়েছিল কেকেআর শিবির। সমর্থকদের হতাশাও বাড়ছিল ক্রমশ। তবে ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নতুন কিছু নয়। আর সেই গল্পই যেন লিখতে শুরু করেছে নাইট ব্রিগেড।
টানা তিনটি ম্যাচ জিতে ফের প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের ফিরিয়ে এনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দলের পারফরম্যান্সে এসেছে আত্মবিশ্বাস। ব্যাটিং এবং বোলিং— দুই বিভাগেই এখন অনেক বেশি ছন্দে দেখা যাচ্ছে কেকেআরকে। ফলে সমর্থকদের মনেও নতুন করে আশা জাগতে শুরু করেছে।
কোন কোন দলের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে KKR?
২০২৬ আইপিএল মরশুমে কলকাতা নাইট রাইডার্স এখনও পর্যন্ত মোট তিনটি ম্যাচ জিতেছে। প্রথম জয় আসে ১৯ এপ্রিল রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় পায় কেকেআর। এরপর ২৬ এপ্রিল লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে এবং শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় কলকাতা। সবশেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দাপুটে পারফরম্যান্স করে ৭ উইকেটে জয় পেয়েছে নাইটরা। এই টানা তিন ম্যাচের জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে খানিকটা উপরে উঠেছে কেকেআর। পাশাপাশি প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনাও জিইয়ে রেখেছে তারা।
এবার কবে মাঠে নামবে কলকাতা নাইট রাইডার্স?
কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার, ৮ মে, দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে। দিল্লির মাঠে রাতের দিকে শিশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এই ম্যাচ কেকেআরের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে গেলে এই ম্যাচে জয় প্রায় বাধ্যতামূলক। হারলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
প্লে-অফে উঠতে গেলে কতগুলো ম্যাচ জিততে হবে?
বর্তমানে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ ম্যাচ থেকে মোট ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। যদিও তারা টানা তিন ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে, তবুও প্লে-অফের রাস্তা এখনও খুব একটা সহজ নয়। সাধারণত আইপিএলের প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ পয়েন্ট প্রয়োজন হয়।
কেকেআরের হাতে এখন আর মাত্র পাঁচটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। সেই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে যদি তারা চারটিতে জয় পায়, তাহলে তাদের মোট পয়েন্ট হবে ১৫। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র পয়েন্ট যথেষ্ট নাও হতে পারে। তখন নেট রানরেট বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাই শুধু জয় পেলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জয়ের দিকেও নজর রাখতে হবে কলকাতাকে।
অন্যদিকে যদি বাকি পাঁচটির মধ্যে সবক’টি ম্যাচ জিততে পারে কেকেআর, তাহলে তাদের মোট পয়েন্ট হবে ১৭। সেই পরিস্থিতিতে প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। ফলে আগামী প্রতিটি ম্যাচ এখন কার্যত ‘করো অথবা মরো’ পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে নাইট ব্রিগেডের কাছে।
নতুন আশার আলো দেখছেন সমর্থকরা
মরশুমের শুরুতে যেভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল কেকেআরকে, এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। দলের বোলাররা উইকেট তুলছেন নিয়মিত। পাশাপাশি মিডল অর্ডারের ব্যাটাররাও দায়িত্ব নিয়ে রান করছেন। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বও প্রশংসা কুড়োচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নাইট সমর্থকদের আশা, টানা জয়ের ধারা বজায় রেখে শেষ মুহূর্তে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে তাদের প্রিয় দল। এখন দেখার, আগামী ম্যাচগুলিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স নিজেদের সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না।














