দীঘা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক যুবক। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে হুগলি জেলার ধনেখালির বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সি এক যুবকের। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক আত্মীয়দের সঙ্গে দীঘায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই পুরনো দীঘার সি-শোর এলাকায় স্নান করতে নামার সময় বিপত্তি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুরের দিকে সমুদ্রে জোয়ারের টান তুলনামূলক বেশি ছিল। তবুও অনেক পর্যটকের মতো তিনিও জলে নামেন। কিছুক্ষণ পর আচমকাই তিনি গভীর জলে ভেসে যেতে থাকেন। পাশে থাকা আত্মীয়রা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় নুলিয়া ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর দীঘা সমুদ্র সৈকতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বর্ষাকাল বা জোয়ারের সময় সমুদ্রের ঢেউ অনেক সময় হঠাৎই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও অনেক পর্যটক তা উপেক্ষা করে জলে নেমে পড়েন। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী কর্মীরা পর্যটকদের আরও সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবকের অকালমৃত্যুতে বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বন্ধু ও আত্মীয়দের মধ্যেও গভীর দুঃখের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীঘার মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা বারবার সামনে আসায় সমুদ্রস্নানের সময় নিরাপত্তা বিধি মানার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে নামার আগে আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা অবশ্যই মেনে চলা উচিত। যেখানে লাল পতাকা বা নিষেধাজ্ঞা থাকে, সেখানে স্নান না করাই নিরাপদ। পর্যটকদের সামান্য অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই আনন্দভ্রমণ যেন শোকের কারণ না হয়, সে জন্য সতর্কতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।









