ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল ভারতের গ্যাসের বাজারে। হঠাৎ করেই বেড়ে গেল এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, যা নতুন করে চাপ বাড়াল সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীদের উপর। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আগামী দিনে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্যিক গ্যাসে বড় ধাক্কা
সরকার ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ২১৮ টাকা বাড়িয়েছে। এই নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ধাবা ব্যবসায়ীদের খরচ অনেকটাই বেড়ে গেল। নতুন দামের হিসেবে দিল্লিতে একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এখন ২,০৭৮.৫০ টাকা। কলকাতায় এই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,২০৮ টাকা। মুম্বাইতে ২,০৩১ টাকা এবং চেন্নাইতে ২,২৪৬.৫০ টাকা দিতে হবে। পাটনায় সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ২,৩৬৫ টাকা, আর জয়পুরে ২,০৩১ টাকা। অর্থাৎ দেশের প্রায় সব বড় শহরেই গ্যাসের খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

গার্হস্থ্য গ্যাসে আপাত স্বস্তি
এই মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে স্বস্তির খবর একটাই—গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। তবে গত ৭ মার্চই ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে দিল্লিতে এখন একটি গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা। এর আগে দাম ছিল ৮৫৩ টাকা। এক বছরের মধ্যেই এটি দ্বিতীয় বড় বৃদ্ধি।
কেন বাড়ল দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের এলপিজি আমদানির উপর। ফলে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না।
সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলির খরচ বেড়ে যাবে। এর ফলে খাবারের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাইরে খাওয়া বা খাবার অর্ডার করা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম না বাড়লেও ভবিষ্যতে তা বাড়তে পারে—এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে চাপ আরও বাড়তে পারে।









