বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান এখন তুঙ্গে। প্রচারের ঝড় বইছে জেলা থেকে জেলায়, আর সেই আবহেই রানিগঞ্জের জনসভা থেকে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য একাধিক সুবিধা ঘোষণা করে কার্যত বড় বার্তা দিলেন তিনি—নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
পুনর্বাসনে বড় ঘোষণা
রানিগঞ্জের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যে ৬ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ফ্ল্যাট তৈরির কাজ চলছে।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে তিনি জানান, যাঁরা স্থানান্তরে রাজি হবেন তাঁদের দুটি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, পুরো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রতি পরিবারে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে, এবং প্রয়োজনে এই খরচ আরও বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি শিফটিংয়ের খরচও বহন করবে সরকার।
মমতার কথায়, “মানুষের জীবন সবচেয়ে মূল্যবান। ধসের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদে থাকা জরুরি। আমরা জোর করছি না, অনুরোধ করছি।”
কেন এত গুরুত্ব পুনর্বাসনে?
রানিগঞ্জ-আসানসোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই কয়লা খনি ও ভূগর্ভস্থ ফাঁপা জমির কারণে ধসপ্রবণ। মাঝেমধ্যেই রাস্তা, বসতি এলাকা এমনকি খনিতেও ধস নামার ঘটনা সামনে এসেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার চাইছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আবাসনে নিয়ে যেতে। সেই লক্ষ্যেই এই বিশাল প্রকল্প।
কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ
এই সভা থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এই পুনর্বাসন প্রকল্পে কেন্দ্র কোনও সাহায্য করেনি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের বহু অফিসারকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রীতির বার্তা
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলা সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মিলিত সংস্কৃতির জায়গা। রামনবমী, ঈদ, দুর্গাপুজো বা বড়দিন—সব উৎসব আমরা একসঙ্গে পালন করি।” রানিগঞ্জের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তার এই প্যাকেজ সাধারণ মানুষের কাছে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।










