Trending NewsAppleNYT GamesCelebrity NewsWordle tipsBig 12 SoccerCelebrity BreakupsKeith UrbanUnited Nations Day

“দল খোঁজ নেয় না, নিরুত্তর দিদি!” ভোটের আগে ক্ষোভে ফুঁসছেন নন্দীগ্রামের ‘শহিদ মাতা’

Updated :  Friday, April 17, 2026 12:14 PM

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে জোরকদমে চলছে রাজনৈতিক প্রচার। এই আবহেই সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা—দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন নন্দীগ্রামের ‘শহিদ মাতা’ ফিরোজা বিবি। ভোটের ঠিক আগে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ ফিরোজা বিবি

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের কালীচরণপুর অঞ্চলের জাদুয়ারিচকের বাসিন্দা ফিরোজা বিবি। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তাঁর ছেলে শেখ ইমদাদুল ইসলাম, যিনি তখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর পাশে দাঁড়ায়। এরপর থেকেই তিনি ‘শহিদ মাতা’ হিসেবে পরিচিতি পান।

রাজনৈতিক জীবনে সাফল্য

২০০৯ সালে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন ফিরোজা বিবি। এরপর ২০১১ সালে নন্দীগ্রাম থেকেই বড় ব্যবধানে জয় পান। পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২১ সালে পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্র থেকেও জিতে টানা চারবার বিধায়ক হন তিনি। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায়নি তাঁকে।

দলের প্রতি অভিমান

এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে ফিরোজা বিবি জানান, “দলের কেউ খোঁজ নেয় না। দিদিকে চিঠি লিখেও কোনও উত্তর পাইনি। এখন মনে হচ্ছে আমার আর কোনও মূল্য নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কখনও টিকিট চাইনি। দলই আমাকে সুযোগ দিয়েছিল। এখন আমি অচল হয়ে গেছি।”

প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও ক্ষোভ

নন্দীগ্রামের প্রার্থী পবিত্র করকে নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দলবদল করে আসা নেতাদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে, যা শহিদ পরিবারগুলির কাছে অসম্মানের।

তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবাররা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না। আমিও অপমানিত বোধ করছি।”

দলের প্রতিক্রিয়া

তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এই ক্ষোভকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিতকুমার রায় জানিয়েছেন, ফিরোজা বিবি এখনও দলের সঙ্গেই আছেন এবং দলীয় প্রতীককে সমর্থন করাই উচিত।

রাজনৈতিক বার্তা কী?

ভোটের মুখে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই বার্তা ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বিরোধী দলগুলিও রাজনৈতিকভাবে সুযোগ নিতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। ভোটের আগে এই ধরনের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।