রাজ্যে সরকার বদলের প্রভাব এবার পড়ল শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও। নতুন শিক্ষামন্ত্রী এখনও দায়িত্ব না নেওয়ায় শিক্ষা দপ্তর থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে শূন্যপদের সংশোধিত তালিকা পৌঁছয়নি। তার জেরেই আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে কাউন্সেলিং, সাক্ষাৎকার-সহ একাধিক নিয়োগ সংক্রান্ত কাজ। সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার নির্দেশ দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।
SSC নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাময়িক স্থগিতাদেশ
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। স্কুল সার্ভিস কমিশন সূত্রে খবর, ভোট গণনার পর থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং আবার শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকারের সূচিও প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তনের কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত থমকে গিয়েছে।
শূন্যপদের তালিকা নিয়েই জট
মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে শূন্যপদের সংশোধিত তালিকা ঘিরে। নতুন শিক্ষামন্ত্রী এখনও দায়িত্ব গ্রহণ না করায় শিক্ষা দপ্তর কমিশনের হাতে সেই তালিকা তুলে দিতে পারেনি। ফলে কোন বিষয়ে কত শূন্যপদ রয়েছে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোনো সম্ভব হচ্ছে না বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। এসএসসি-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সঠিক ও নির্ভুল শূন্যপদের তথ্য ছাড়া স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব নয়। সেই কারণেই কাউন্সেলিং এবং সাক্ষাৎকার আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
কতগুলি পদে নিয়োগ হওয়ার কথা?
বর্তমানে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১২ হাজার ৫১৪টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৩ হাজার ৩১৪টি শিক্ষক পদে নিয়োগের দায়িত্ব রয়েছে কমিশনের উপর। পাশাপাশি অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের কাজও আপাতত বন্ধ রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ১৭ হাজার ২০৯ জনের চাকরি বাতিল করে দেয়। একইসঙ্গে নতুন করে নিয়োগের মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণের নির্দেশও দেয় আদালত। প্রথমে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত করা হয়।
চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
কিন্তু এখনও পর্যন্ত সংশোধিত শূন্যপদের তালিকা না মেলায় গোটা প্রক্রিয়াই ধাক্কা খেয়েছে। এমনকি অনেক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পেলেও তাঁদের চাকরি এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা দপ্তরের কাছে নতুন করে তথ্য চেয়ে চিঠিও পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা এবং অ্যাপটিটিউড টেস্টও এখনও শুরু হয়নি। ফলে স্কুলশিক্ষা ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।









