ভোটার তালিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে—এই প্রশ্নে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বহু মানুষ। এবার সেই জট কাটাতে বড় আশ্বাস দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, দ্রুত কাজ চলছে এবং ৭ এপ্রিলের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
৭ এপ্রিলের মধ্যে নিষ্পত্তির আশ্বাস
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত বকেয়া মামলার নিষ্পত্তি ৭ এপ্রিলের মধ্যেই করা হবে। প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে একটি চিঠি এসেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইতিমধ্যেই ৪৭ লক্ষ কেস নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ করে মামলার সমাধান করা হচ্ছে, যা দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগোনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নতুন ট্রাইবুনাল গঠন
আদালতে জানানো হয়, ২০ মার্চ নির্বাচন কমিশন একটি অ্যাপেলেট ট্রাইবুনাল গঠন করেছে। এই ট্রাইবুনাল খুব শিগগিরই কাজ শুরু করবে। কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু জানান, বর্তমানে ট্রেনিং চলছে এবং খুব দ্রুতই ট্রাইবুনাল কার্যকর হবে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, এই কাজে নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সম্মানী ও অন্যান্য খরচ নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।
আইনজীবীদের প্রশ্ন ও আদালতের মন্তব্য
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, প্রাক্তন বিচারপতিদের কেন কমিশন প্রশিক্ষণ দেবে। তাঁর মতে, তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, কমিশনের হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা অভিজ্ঞ এবং নিরপেক্ষভাবেই কাজ করবেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, এটি আসলে প্রশিক্ষণ নয়, বরং কাজের পদ্ধতি বোঝানোর একটি প্রক্রিয়া মাত্র।
স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, কোনও আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। সফটওয়্যারে সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, আবেদনকারীদের জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আদালত জানায়, যেখানে সন্দেহ থাকবে, সেখানে নথি যাচাই করা হবে।
ভোটাধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার শেষ হয়ে গেল। ভবিষ্যতে আবার নাম যুক্ত বা বাদ দেওয়া সম্ভব। শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের অফিসে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ জমা পড়ার বিষয়টিও সামনে আসে, যা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।











