২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। ঠিক এই সময়েই আইনি জটে জড়ালেন অভিনেতা তথা তৃণমূল প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। ঋণখেলাপির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে এবং আদালত থেকে হাজিরার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে এমন বিতর্ক দলীয় সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আদালতে হাজিরার নির্দেশ
মামলাকারী ব্যবসায়ী ও তৃণমূল নেতা শাহিদ ইমামের অভিযোগ, ২০২১ সালে একটি ছবির জন্য তিনি সোহমকে টাকা দেন। বর্তমানে তাঁর দাবি, মোট ৬৮ লক্ষ টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। শাহিদের দাবি, টাকা চাওয়ায় তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে সেই মামলার প্রেক্ষিতেই পুলিশ নোটিস পাঠায় এবং এবার হাইকোর্টে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২ এপ্রিল সোহম চক্রবর্তীকে উপস্থিত থাকতে হবে।

রাজনৈতিক মন্তব্যে বাড়ল বিতর্ক
সোহম চক্রবর্তী আগেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে শাহিদ ইমাম পাল্টা বলেন, “আমরা কাউকে দেখে রাজনীতি করি না, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দল করি।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভোটের আগে চাপ বাড়ল
নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই এই আইনি চাপ সোহমের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। করিমপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ায় এই বিতর্ক তাঁর ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মামলার পরবর্তী শুনানি
কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই মামলাটি গ্রহণ করেছে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিন সোহম বা তাঁর আইনজীবী কী সাফাই দেন, সেদিকেই নজর থাকবে।
অতীত প্রসঙ্গও সামনে
প্রসঙ্গত, শাহিদ ইমাম ২০২২ সালে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে জামিন পান। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি সোহমের বিরুদ্ধে টাকা ফেরতের দাবি তোলেন। এই পুরনো মামলাও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। বর্তমানে এই মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই জল্পনা বাড়ছে।










