রাজ্যের উন্নয়নমূলক ও সংস্কার প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে এবং দ্রুত কাজ শুরু করার লক্ষ্যে একাধিক প্রশাসনিক দফতরের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নবান্নের এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ছাড়পত্র পেতে আর আগের মতো দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দফতরের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করে নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হল, ছোট ও মাঝারি প্রকল্পগুলির অনুমোদন সরাসরি সংশ্লিষ্ট দফতরের স্তর থেকেই দেওয়া, যাতে ফাইল ঘোরাঘুরি কমে এবং কাজ দ্রুত শুরু করা যায়।
কোন কোন দফতরের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে?
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্ত দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর এবং নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতর এখন থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন নিজস্ব স্তর থেকেই দিতে পারবে। এর ফলে রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল প্রকল্প, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং শহুরে পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য উন্নয়ন দফতরের জন্যও বড় সিদ্ধান্ত
শুধু বড় দফতরই নয়, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর এবং সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের আর্থিক ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। এই দফতরগুলি এখন থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পে সরাসরি অনুমোদন দিতে পারবে। অন্যদিকে, বাকি প্রশাসনিক দফতরগুলির ক্ষেত্রে আর্থিক অনুমোদনের সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
থাকছে আর্থিক উপদেষ্টার নজরদারি
তবে ক্ষমতা বাড়ানো হলেও প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। নবান্নের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও প্রকল্পে প্রশাসনিক বা আর্থিক অনুমোদন দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের আর্থিক উপদেষ্টার সম্মতি বাধ্যতামূলক। সরকারের মতে, এর ফলে একদিকে যেমন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বজায় থাকবে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নবান্নের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে পরিকাঠামো উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, গ্রামীণ ও শহুরে উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।








