পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত পঞ্চায়েত কর্মীদের বদলি করা হবে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত দপ্তরের শূন্যপদ পূরণে ১১ হাজারেরও বেশি নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক বৈঠকে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত প্রায় ১,১০০ জন কর্মী তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির সম্ভাবনা কমাতে তাঁদের অবিলম্বে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি জুন মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবিরোধী নজরদারি কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার জন্য জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, উন্নয়নের কাজে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
১১ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগ
পঞ্চায়েত দপ্তরে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১১,১৫৪টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা ও মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
এর আগে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হলেও বাকি পদগুলি পূরণের জন্যও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
গ্রাম বাংলার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা
মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বরাদ্দ রাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৪৫টি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
এছাড়া গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের সময়সীমা ১২৫ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত দপ্তরে বদলি ও নিয়োগ সংক্রান্ত এই ঘোষণাকে প্রশাসনিক সংস্কার এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।









