২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হলেও তার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর দুর্নীতি দমন শাখা একটি ম্যাচে ফিক্সিংয়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বকাপের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন ম্যাচ নিয়ে উঠেছে অভিযোগ?
সূত্র অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড বনাম কানাডার মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ৩১তম ম্যাচটি ঘিরেই এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, এই ম্যাচে কিছু সন্দেহজনক পারফরম্যান্স দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট মহলে।
কী ধরনের অভিযোগ উঠেছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, কানাডা দলের কয়েকজন বোলারের পারফরম্যান্স নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ওভারে অস্বাভাবিকভাবে বেশি রান দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে একটি ওভারে নো বল ও ওয়াইড সহ অতিরিক্ত রান দেওয়ার ঘটনা তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তদন্তে নেমেছে ICC
ESPN Cricinfo-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ICC-র অ্যান্টি করাপশন ইউনিট ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। শুধু ওই ম্যাচই নয়, কানাডার ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যেও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তথ্যচিত্রে উঠে এল বিস্ফোরক দাবি
কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (CBC) একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
সেই তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে—
- খেলোয়াড় নির্বাচনে বাইরের চাপ ছিল
- ম্যাচে সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গিয়েছে
- বোর্ডের অভ্যন্তরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে
পুরনো ফোনকল থেকেও মিলেছে ইঙ্গিত
তদন্তে একটি পুরনো ফোন রেকর্ডিংও সামনে এসেছে। সেখানে তৎকালীন কোচ দাবি করেছেন, বোর্ডের তরফে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
কতটা গুরুতর পরিস্থিতি?
এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ক্রিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলবে। সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও বোর্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও তদন্ত চলছে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।












